ফুল সিলেবাসেই হতে যাচ্ছে ২০২৩ সালের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা

 কোন সিলোবাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা হবে 

ফুল সিলেবাসে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা
ছবি :সংগৃহীত 

প্রতিবারের ন্যায় সম্পূর্ণ সিলেবাসেই হবে ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা।

নভেম্বরে এইচএসসি হলে মার্চের মধ্যেই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা চলছে৷ 

~ স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা 

একজন মেডিকেল পরীক্ষার্থীর জন্য করণীয় (বিশেষ করে সেকেন্ড টাইমারদের উদ্দেশ্যে):

এখানে শুধুমাত্র আমার অভিজ্ঞতা থেকেই বললাম। ইনবক্সে আমাকে এ ব্যাপারে অনেকেই জানতে চাওয়ায় পোস্ট করলাম। এমন ভাবেই যে পড়তে হবে এমনটা নয়। যদি তুমি আরো ভালো কোন কৌশল জানো তবে ওইটাই ফলো করবে। কোচিং এর অভিজ্ঞ ভাইদের পরামর্শের তুলনায় আমার পরামর্শ কিছুই না।


একজন সেকেন্ড টাইমার এর জন্য কোন জায়গায় ভর্তি হয়ে থাকাটাই সবচেয়ে ভালো। এটা মানসিকভাবে অনেকটা সাপোর্ট দিবে।

প্রথমবার এডমিশনের সময় যে ভুলগুলো হয়েছিল সেগুলো শনাক্ত করতে হবে এবং সলভ করার চেষ্টা করতে হবে।

কোচিং থেকে দেওয়া মূল বইয়ের দাগানো লাইন গুলো আগে ভালোভাবে শেষ করতে হবে। সব পড়তে যেও না এতে গুলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একজন সেকেন্ড টাইমারের জন্যও সব পরে শেষ করা সম্ভব নয়। তাই কৌশলী হও ।কৌশলীরাই এডমিশনে অগ্রগামী হয়।

মূল বই হিসেবে পদার্থের ক্ষেত্রে ইসহাক স্যার, রসায়নের ক্ষেত্রে হাজারী ও নাগ স্যার, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র হাসান স্যার এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র আজমল স্যার সাধারণত ধরা হয়।

বিগত বছরে মেডিকেল এবং ডেন্টালে আসা প্রশ্নগুলো খুব ভালোভাবে সলভ করতে হবে। এর জন্য' দি মেডিসিন ' বইটি আমার দেখা মতে সবচেয়ে ভালো। বইটি থেকে মেডিকেল এক্সামে অনেক প্রশ্ন কমন পাবা ইনশাল্লাহ।

পদার্থ এবং রসায়নের ক্ষেত্রে অনুশীলনীর এমসিকিউ গুলো খুব ভালোভাবে সলভ করবা। পদার্থের ক্ষেত্রে (ইসহাক স্যারের) অধ্যায় শেষে যে গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলো থাকে সেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এইসব জায়গা থেকে সরাসরি প্রশ্ন কমন আসে মেডিকেল এক্সামে।

মূল বইয়ের কোন অধ্যায় (শেষের দিকে পুরো বই) পড়ার ক্ষেত্রে দ্রুততার সাথে রিভিশন দিবা। বেশি বেশি রিভাইস দিলে পড়া বেশি মনে থাকে। অবশ্যই সময়ের প্রতি খেয়াল রাখবা।

এছাড়া অন্যান্য বই (যেমন -জয়কলির বই বা রয়েল গাইড বা কোচিং থেকে দেওয়া বই) থেকে বেশি বেশি mcq সলভ করতে পারো। রয়েল গাইড এক্ষেত্রে অগ্রগামী। এমসিকিউ সলভ করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। মূল বইয়ের বাইরের অন্যান্য বইয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এতে উঠে আসবে। মূল বইয়ের বাইরের কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাইলে তুমি তোমার মূল বইয়ে লিখে রাখতে পারো। কারণ, পরীক্ষার আগে মেইন বই বাদে বাড়তি বই পড়ার এত সময় থাকে না। তাই মূল বই হিসেবে একটাই থাকা উচিত। বেশি বেশি mcq সলভ করলে অন্যান্য মেইন বই আর এত ঘাঁটাঘাটি করতে হবে না। ফলে সময়ও বেঁচে যাবে ।এই পদ্ধতিটা সেকেন্ড টাইমারদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য মেইন বই ঘাটাঘাটি না করে বেশি বেশি এমসিকিউ সলভ কর। এর বহুমুখী উপকারিতা আছে। কোচিং সেন্টার থেকে দেওয়া বাড়তি বইগুলোও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করে।

এডমিশনের সময় নতুন সংস্করণের বই কেনাটাই সবচেয়ে ভালো হবে। নতুন সংস্করণের বইয়ে অনেক সময় কিছু এড করা হয়। সারা বছর এলোমেলোভাবে নিজের মতো করে দাগিয়ে পড়া বইয়ের চেয়ে ভালো কোন কোচিং সেন্টার থেকে দেওয়া দাগানো লাইনগুলো নতুন বইতে দাগিয়ে নেওয়াটাই উত্তম। কোচিং এর দেওয়া দাগানো লাইন গুলো সব সময় একই কালারে(বিশেষ করে লাল কালার)দাগাবে। এর বাইরে অন্য কোন তথ্য তোমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে অন্য কালারে দাগাবে। কোচিং এর দাগানো লাইনের বাইরেও কিছু প্রশ্ন আসে মেডিকেল এক্সামে। আমি বিগত বছরগুলোতে মেডিকেল ,ডেন্টাল ( এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ঢাবি) আসা প্রশ্নগুলো মেইন বইয়ের যে লাইন থেকে আসছে তার পাশে তিরচিহ্ন দিয়ে সনসহ লিখে রাখছিলাম। কারণ এর আশেপাশে বা এইখান থেকেই বেশি প্রশ্ন আসে মেডিকেল এক্সামে। ফলে কোনগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ টপিক্স সেগুলো জানার জন্য বারবার প্রশ্ন ব্যাংক দেখার প্রয়োজন হয় নি। দাগানো লাইনের মধ্যে এমসিকিউ এ উত্তর হতে পারে এমন শব্দ গোল দাগ দিয়ে রাখতে পার। বিশেষ করে জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে পার্থক্য, উদাহরণ (বিশেষ ),ছক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জিকে এবং ইংলিশের জন্য বিগত বছরের মেডিকেল, ডেন্টাল ও বিসিএস এ আসা প্রশ্ন সলভ অবশ্যই করতে হবে(এবং এক্ষেত্রে সবার আগে)। বিগত বছরগুলোতে যেই যেই টপিক্স গুলো থেকে বেশি প্রশ্ন আসছে এগুলো বেশি গুরুত্ব দিবা। জিকের জন্য কোচিং থেকে দেওয়া বইয়েই সবচেয়ে ভাল। আমি এর পাশাপাশি মেডি জ্ঞানকোষ বইটি পড়ছিলাম। ইংলিশের জন্য কোচিং থেকে দেওয়া ইংরেজি বই, দি এপেক্স বই, মেডিকেলের জন্য ইংলিশ রয়েল গাইড (এটাও প্র্যাকটিসের জন্য অনেক ভালো), যেকোনো এক বা একাধিক বই পড়তে পারো।

বিভিন্ন কোচিংয়ের মডেল টেস্ট বই সংগ্রহ করে এমসিকিউ সলভ করতে পারো এবং শেষের দিকে মডেল টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করতে পারো।

কোচিং এর পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করলে মন খারাপ করার কিছু নাই। এরকম অনেকেই তাকে যারা কোচিংয়ের খারাপ করে পড়ে কিন্তু ঠিকই চান্স পায়। তবে তারা হল যারা কোচিং এর পরীক্ষায় খারাপ করলেও ভালো করার সব সময় চেষ্টা করে এবং পরীক্ষায় ভুল হওয়া প্রশ্নগুলো শুধরাতে চেষ্টা করে। নিজেকে যাচাই করার জন্য অবশ্যই বেশি বেশি পরীক্ষা দিতে হবে।

পরিশেষে বলি, সালাত কায়েম করো এবং সৎকর্ম কর। সেটা মেডিকেলের জন্য নয় নিজ রবের সন্তুষ্টির জন্য। তোমার আমার মত এরকম অনেকই প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছে বা হয়েছে। তাদের অনেকেই আজ মাটির নিচে। আর যদি বলো নামাজ পড়লে পড়ার সময় নষ্ট হবে, তাহলে বলবো ভাই বা বোন তুমি তোমার নফস ও শয়তানের ধোকায় পড়েছ। ধৈর্য এবং সালাতের মাধ্যমে রবের কাছে সাহায্য এবং বরকত চাও। আর রবের সাহায্য পেলে তোমার সামনে সবকিছুই সহজ দেখতে পাবে ইনশাআল্লাহ। যদি চান্স না পাও তাহলে নিশ্চিত জেনে নাও, এতে তোমার জন্য কল্যাণ নেই। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি এবং যারা আল্লাহর উপর নির্ভর করে তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। আর সালাত তো মুমিন এবং কাফিরের মধ্যে পার্থক্যকারী।💞





Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url